২০২৯ সালের সূর্যগ্রহণ ও চন্দ্রগ্রহণ

বছরের প্রতিটি গ্রহণের তারিখ আর ঢাকার সময় এখানে পাবেন। গ্রহণের সময় বাংলাদেশে সূর্য বা চাঁদ দিগন্তের ওপরে থাকবে কি না, তা-ও বলা আছে। চন্দ্রগ্রহণ পৃথিবীর যে অর্ধেকে তখন রাত, তার সব জায়গা থেকেই একসঙ্গে দেখা যায়, তাই বেশির ভাগ চন্দ্রগ্রহণ এখান থেকে দেখা সম্ভব। সূর্যগ্রহণ দেখা যায় সরু একটা পথ ধরে, আর বেশির ভাগ বছর সেই পথ বাংলাদেশের ওপর দিয়ে যায় না।

সামনের গ্রহণ

শনি, ৬ ফেব্রুয়ারি, ২০২৭: বলয়গ্রাস সূর্যগ্রহণ

বাংলাদেশ থেকে দেখা যাবে না।

২০২৯ সালের চন্দ্রগ্রহণ

চাঁদ পৃথিবীর ছায়ার ভেতর দিয়ে গেলে চন্দ্রগ্রহণ হয়। উপচ্ছায়া গ্রহণে চাঁদ সামান্য ম্লান দেখায়। আংশিক আর পূর্ণগ্রাস গ্রহণে চাঁদের একটা অংশ স্পষ্ট ঢাকা পড়ে। সময় ঢাকার।

তারিখধরনকতটা ঢাকা পড়বেঢাকার সময়বাংলা তারিখহিজরি তারিখবাংলাদেশ থেকে
মঙ্গল, ২৬ জুন, ২০২৯এই দিনের দৃক পঞ্চাঙ্গপূর্ণগ্রাস১০০%
শুরু:
৬:৩৪ AM
আংশিক পর্ব:
৭:৩২ AM – ১১:১২ AM
পূর্ণগ্রাস:
৮:৩০ AM – ১০:১৩ AM
সর্বোচ্চ:
৯:২২ AM
শেষ:
১২:১০ PM
১২ আষাঢ় ১৪৩৬১৩ সফর ১৪৫১ হিজরিদেখা যাবে না
শুক্র, ২১ ডিসেম্বর, ২০২৯এই দিনের দৃক পঞ্চাঙ্গপূর্ণগ্রাস১০০%
শুরু:
১:৪২ AM
আংশিক পর্ব:
২:৫৪ AM – ৬:২৮ AM
পূর্ণগ্রাস:
৪:১৪ AM – ৫:০৯ AM
সর্বোচ্চ:
৪:৪১ AM
শেষ:
৭:৪১ AM
৬ পৌষ ১৪৩৬১৪ শাবান ১৪৫১ হিজরিদেখা যাবে

চন্দ্রগ্রহণ সবার জন্য একই মুহূর্তে হয়, তাই ওপরের সময় সারা বাংলাদেশের জন্যই খাটে। "দেখা যাবে" মানে গ্রহণের অন্তত কিছু সময় চাঁদ দিগন্তের ওপরে থাকবে।

২০২৯ সালের সূর্যগ্রহণ

চাঁদ সূর্যের সামনে দিয়ে যায়। গ্রহণ এখান থেকে দেখা গেলে মাত্রা ঢাকার হিসাবে, নইলে পৃথিবীর যেখানে গ্রহণ সবচেয়ে বেশি সেখানকার।

তারিখধরনকতটা ঢাকা পড়বেঢাকার সময়বাংলা তারিখহিজরি তারিখবাংলাদেশ থেকে
রবি, ১৪ জানুয়ারি, ২০২৯এই দিনের দৃক পঞ্চাঙ্গআংশিক—সর্বোচ্চ গ্রহণ: ১১:১২ PM৩০ পৌষ ১৪৩৫২৮ শাবান ১৪৫০ হিজরিদেখা যাবে না
মঙ্গল, ১২ জুন, ২০২৯এই দিনের দৃক পঞ্চাঙ্গআংশিক—সর্বোচ্চ গ্রহণ: ১০:০৪ AM২৯ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৬২৯ মহররম ১৪৫১ হিজরিদেখা যাবে না
বুধ, ১১ জুলাই, ২০২৯এই দিনের দৃক পঞ্চাঙ্গআংশিক—সর্বোচ্চ গ্রহণ: ৯:৩৬ PM২৭ আষাঢ় ১৪৩৬২৮ সফর ১৪৫১ হিজরিদেখা যাবে না
বুধ, ৫ ডিসেম্বর, ২০২৯এই দিনের দৃক পঞ্চাঙ্গআংশিক—সর্বোচ্চ গ্রহণ: ৯:০২ PM২০ অগ্রহায়ণ ১৪৩৬২৭ রজব ১৪৫১ হিজরিদেখা যাবে না

সূর্যগ্রহণের স্পর্শের সময় জেলাভেদে কয়েক মিনিট এদিক-ওদিক হয়। "দেখা যাবে না" মানে বাংলাদেশে তখন সূর্য দিগন্তের নিচে, নয়তো চাঁদের ছায়া পৃথিবীর এই অংশে পৌঁছায়ই না।

গ্রহণ সম্পর্কে

  • চন্দ্রগ্রহণ কেবল পূর্ণিমায় হয়, যখন চাঁদ পৃথিবীর ছায়ায় ঢোকে। উপচ্ছায়া গ্রহণে চাঁদ শুধু বাইরের হালকা ছায়া পার হয় আর একটু ম্লান হয়। আংশিক গ্রহণে চাঁদের কিছু অংশ ঘন প্রচ্ছায়ায় ঢোকে। পূর্ণগ্রাসে পুরো চাঁদ প্রচ্ছায়ার ভেতরে থাকে আর সাধারণত গাঢ় লাল দেখায়।
  • সূর্যগ্রহণ কেবল অমাবস্যায় হয়, যখন চাঁদের ছায়া পৃথিবীতে পড়ে। ছায়ার ঘন কেন্দ্র মাত্র কয়েকশ কিলোমিটার চওড়া, তাই পূর্ণগ্রাস বা বলয়গ্রাস দেখা যায় সরু একটি পথ ধরে, আর আংশিক গ্রহণ তার চেয়ে বড় এলাকা থেকে। শতাব্দীতে মাত্র কয়েকবার এই পথ বাংলাদেশের ওপর দিয়ে যায়।
  • গ্রহণ দেখার চশমা বা ১৪ নম্বর শেডের ওয়েল্ডিং কাচ ছাড়া সূর্যগ্রহণের দিকে কখনো তাকাবেন না। সাধারণ সানগ্লাস, এক্স-রে ফিল্ম বা কালি মাখানো কাচে চোখ বাঁচে না। চন্দ্রগ্রহণ খালি চোখে দেখায় কোনো ঝুঁকি নেই।
  • গ্রহণ সাধারণত জোড়ায় আসে, সপ্তাহ দুয়েকের ব্যবধানে একটা সূর্যগ্রহণ আর একটা চন্দ্রগ্রহণ। আর ১৮ বছরের সারোস চক্রে একই রকম গ্রহণ ফিরে ফিরে আসে। এ কারণেই একই ধরনের গ্রহণ কয়েক প্রজন্ম পর আকাশের একই অঞ্চলে দেখা যায়।
  • বাংলা পঞ্জিকায় চন্দ্রগ্রহণ সব সময় পূর্ণিমা তিথিতে আর সূর্যগ্রহণ অমাবস্যায় পড়ে। প্রতিটি দিনের পঞ্জিকায় তিথি আর গ্রহণের সময় পালনীয় প্রচলিত আচারের উল্লেখ আছে।

সচরাচর জিজ্ঞাসা