২০২৮ সালের সূর্যগ্রহণ ও চন্দ্রগ্রহণ
বছরের প্রতিটি গ্রহণের তারিখ ও ঢাকার সময়, সঙ্গে গ্রহণের সময় বাংলাদেশে সূর্য বা চাঁদ দিগন্তের ওপরে থাকবে কি না। চন্দ্রগ্রহণ পৃথিবীর পুরো রাতের দিক থেকে একসঙ্গে দেখা যায়, তাই বেশির ভাগই এখান থেকে দেখা সম্ভব; সূর্যগ্রহণ সরু একটি পথ ধরে আসে, আর বেশির ভাগ বছর বাংলাদেশে একটিও পৌঁছায় না।
পরবর্তী গ্রহণ
শনি, ৬ ফেব্রুয়ারি, ২০২৭ — বলয়গ্রাস সূর্যগ্রহণ
বাংলাদেশ থেকে দেখা যাবে না।
২০২৮ সালের চন্দ্রগ্রহণ
চাঁদ পৃথিবীর ছায়ার ভেতর দিয়ে যায়। উপচ্ছায়া গ্রহণে চাঁদ সামান্য ম্লান হয়; আংশিক ও পূর্ণগ্রাস গ্রহণে চাঁদের একটা অংশ স্পষ্ট ঢাকা পড়ে। সময় ঢাকার।
| তারিখ | ধরন | কতটা ঢাকা পড়বে | ঢাকার সময় | বাংলা তারিখ | হিজরি তারিখ | বাংলাদেশ থেকে |
|---|---|---|---|---|---|---|
| বুধ, ১২ জানুয়ারি, ২০২৮এই দিনের পঞ্জিকা | আংশিক | ৩% |
| ২৮ পৌষ ১৪৩৪ | ১৪ শাবান ১৪৪৯ হিজরি | দেখা যাবে না |
| বৃহস্পতি, ৬ জুলাই, ২০২৮এই দিনের পঞ্জিকা | আংশিক | ৩৩% |
| ২২ আষাঢ় ১৪৩৫ | ১২ সফর ১৪৫০ হিজরি | দেখা যাবে |
| রবি, ৩১ ডিসেম্বর, ২০২৮এই দিনের পঞ্জিকা | পূর্ণগ্রাস | ১০০% |
| ১৬ পৌষ ১৪৩৫ | ১৪ শাবান ১৪৫০ হিজরি | দেখা যাবে |
চন্দ্রগ্রহণ সবার জন্য একই মুহূর্তে হয়; উপরের সময় সারা বাংলাদেশের জন্য প্রযোজ্য। "দেখা যাবে" মানে গ্রহণের অন্তত কিছু সময় চাঁদ দিগন্তের ওপরে থাকবে।
২০২৮ সালের সূর্যগ্রহণ
চাঁদ সূর্যের সামনে দিয়ে যায়। গ্রহণ এখান থেকে দেখা গেলে মাত্রা ঢাকার হিসাবে, নইলে পৃথিবীর যেখানে গ্রহণ সবচেয়ে বেশি সেখানকার।
| তারিখ | ধরন | কতটা ঢাকা পড়বে | ঢাকার সময় | বাংলা তারিখ | হিজরি তারিখ | বাংলাদেশ থেকে |
|---|---|---|---|---|---|---|
| বুধ, ২৬ জানুয়ারি, ২০২৮এই দিনের পঞ্জিকা | বলয়গ্রাস | ৮৫% | সর্বোচ্চ গ্রহণ: ৯:০৭ PM | ১২ মাঘ ১৪৩৪ | ২৮ শাবান ১৪৪৯ হিজরি | দেখা যাবে না |
| শনি, ২২ জুলাই, ২০২৮এই দিনের পঞ্জিকা | পূর্ণগ্রাস | ১০০% | সর্বোচ্চ গ্রহণ: ৮:৫৫ AM | ৭ শ্রাবণ ১৪৩৫ | ২৮ সফর ১৪৫০ হিজরি | দেখা যাবে না |
সূর্যগ্রহণের স্পর্শের সময় জেলাভেদে কয়েক মিনিট এদিক-ওদিক হয়। "দেখা যাবে না" মানে বাংলাদেশে তখন সূর্য দিগন্তের নিচে, নয়তো চাঁদের ছায়া পৃথিবীর এই অংশে পৌঁছায়ই না।
গ্রহণ সম্পর্কে
- চন্দ্রগ্রহণ কেবল পূর্ণিমায় হয়, যখন চাঁদ পৃথিবীর ছায়ায় ঢোকে। উপচ্ছায়া গ্রহণে চাঁদ শুধু বাইরের হালকা ছায়া পার হয় আর একটু ম্লান হয়। আংশিক গ্রহণে চাঁদের কিছু অংশ ঘন প্রচ্ছায়ায় ঢোকে। পূর্ণগ্রাসে পুরো চাঁদ প্রচ্ছায়ার ভেতরে থাকে আর সাধারণত গাঢ় লাল দেখায়।
- সূর্যগ্রহণ কেবল অমাবস্যায় হয়, যখন চাঁদের ছায়া পৃথিবীতে পড়ে। ছায়ার ঘন কেন্দ্র মাত্র কয়েকশ কিলোমিটার চওড়া, তাই পূর্ণগ্রাস বা বলয়গ্রাস দেখা যায় সরু একটি পথ ধরে, আর আংশিক গ্রহণ তার চেয়ে বড় এলাকা থেকে। শতাব্দীতে মাত্র কয়েকবার এই পথ বাংলাদেশের ওপর দিয়ে যায়।
- উপযুক্ত গ্রহণ-চশমা বা ১৪ নম্বর শেডের ওয়েল্ডিং কাচ ছাড়া সূর্যগ্রহণের দিকে কখনো তাকাবেন না। সাধারণ সানগ্লাস, এক্স-রে ফিল্ম বা কালি মাখানো কাচে চোখ বাঁচে না। চন্দ্রগ্রহণ খালি চোখে দেখা সম্পূর্ণ নিরাপদ।
- গ্রহণ সাধারণত জোড়ায় আসে — সপ্তাহ দুয়েকের ব্যবধানে একটি সূর্যগ্রহণ ও একটি চন্দ্রগ্রহণ — আর ১৮ বছরের সারোস চক্রে ফিরে ফিরে আসে। এ কারণেই একই ধরনের গ্রহণ কয়েক প্রজন্ম পর আকাশের একই অঞ্চলে দেখা যায়।
- বাংলা পঞ্জিকায় চন্দ্রগ্রহণ সব সময় পূর্ণিমা তিথিতে আর সূর্যগ্রহণ অমাবস্যায় পড়ে। প্রতিটি দিনের পঞ্জিকায় তিথি আর গ্রহণের সময় পালনীয় প্রচলিত আচারের উল্লেখ আছে।