আমরা প্রতিটি তারিখ যেভাবে হিসাব করি

এই সাইটের কোনো তারিখ ছাপা ক্যালেন্ডার থেকে টুকে আনা নয়। প্রতিটি তারিখ, সময় আর ছুটি সাইটের নিজস্ব কোড কয়েকটি প্রকাশিত নিয়ম ও তথ্যসূত্র থেকে হিসাব করে বের করে। সেই নিয়মগুলো নিচে খুলে বলা হলো, যাতে আপনি নিজেই ফল মিলিয়ে দেখতে পারেন, আর দুটি ক্যালেন্ডারে দুই রকম তারিখ দেখলে কোনটা মানবেন তা জানতে পারেন।

নিয়মগুলো শেষবার যাচাই করা হয়েছে ১২ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

বাংলা তারিখ (বঙ্গাব্দ)

বাংলাদেশে বাংলা একাডেমির বর্ষপঞ্জি চলে, তবে ২০১৯ সালে সরকার যেভাবে সংশোধন করেছে সেই রূপে। ওই সংশোধনে পহেলা বৈশাখ ১৪ এপ্রিলে স্থির করা হয়েছে। তাই ১৪ এপ্রিলের পর ইংরেজি সন থেকে ৫৯৩ বাদ দিলে বঙ্গাব্দ পাওয়া যায়, তার আগে বাদ দিতে হয় ৫৯৪। যেমন ২১ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ হলো ৮ ফাল্গুন ১৪৩২, আর ১৪ এপ্রিল ২০২৬ হলো ১ বৈশাখ ১৪৩৩।

মাসের দৈর্ঘ্য একটি ছাড়া কখনো বদলায় না। বৈশাখ থেকে আশ্বিন ৩১ দিন করে, কার্তিক, অগ্রহায়ণ, পৌষ ও মাঘ ৩০ দিন, ফাল্গুন ২৯ দিন আর চৈত্র ৩০ দিন। যে বছর ২৯ ফেব্রুয়ারি ফাল্গুনের মধ্যে পড়ে, সে বছর ফাল্গুন ৩০ দিনের হয়। ইংরেজি অধিবর্ষের বাড়তি দিনটা এভাবেই জায়গা পায়, নববর্ষ এক দিনও সরে না। এই কারণেই জাতীয় দিবসগুলো প্রতি বছর একই বাংলা তারিখে থাকে: ২১ ফেব্রুয়ারি সব সময় ৮ ফাল্গুন, ২৬ মার্চ ১২ চৈত্র, ১৫ আগস্ট ৩১ শ্রাবণ আর ১৬ ডিসেম্বর ১ পৌষ।

এর দুটি ফল অনেককে ধাঁধায় ফেলে। প্রথমত, এটি পশ্চিমবঙ্গের পঞ্জিকা নয়। সেখানকার প্রচলিত পঞ্জিকায় মাস শুরু হয় সূর্যের রাশি বদলের হিসাবে, তাই মাসের শুরু এক দিন এদিক-ওদিক হয় আর পহেলা বৈশাখ সাধারণত পড়ে ১৫ এপ্রিলে। দ্বিতীয়ত, সংশোধিত নিয়ম চালু হয়েছে ১৩৯৪ বঙ্গাব্দ, অর্থাৎ ১৯৮৭ সাল থেকে। তার আগের তারিখ, ধরুন জমির দলিলে লেখা কোনো তারিখ, পুরোনো জ্যোতিষীয় পঞ্জিকা অনুযায়ী লেখা। আমাদের রূপান্তরক সেসব তারিখ নেয় ঠিকই, তবে একটা সতর্কবার্তা দেখায়, কারণ আসল তারিখ এক থেকে তিন দিন আলাদা হতে পারে।

আমাদের বাংলা ক্যালেন্ডারের ছকে সপ্তাহ শুরু হয় শুক্রবার থেকে, বাংলাদেশের ছাপা পঞ্জিকার ধাঁচে। ইংরেজি ক্যালেন্ডারের ছক শুরু হয় রবিবার থেকে।

রূপান্তরের কোড একটি স্বয়ংক্রিয় পরীক্ষার আওতায় থাকে। সেই পরীক্ষা অধিবর্ষ পেরিয়েও ১ বৈশাখকে ১৪ এপ্রিলে বেঁধে রাখে কি না দেখে, ১৪ এপ্রিলের দুই পাশে সন বদল ঠিক আছে কি না দেখে, প্রতিটি মাসের শুরুর দিন মেলায়, আর প্রতিটি দিনকে দুই দিকে রূপান্তর করে দেখে কোনো দিন হারিয়ে যাচ্ছে কি না। প্রতিবার সাইট আপডেটের আগে এই পরীক্ষা চালানো হয়।

নববর্ষ
প্রতি বছর ১৪ এপ্রিল
সনের সূত্র
ইংরেজি সন − ৫৯৩ (১৪ এপ্রিলের আগে − ৫৯৪)
অধিবর্ষের নিয়ম
২৯ ফেব্রুয়ারি ফাল্গুনে পড়লে ফাল্গুন ৩০ দিন
তথ্যসূত্র
বাংলা একাডেমির বর্ষপঞ্জি, ২০১৯ সালের সরকারি সংশোধনী

হিজরি তারিখ

হিজরি ক্যালেন্ডার একটা নয়। সৌদি আরব উম্মুল কুরা নামে একটি গাণিতিক তালিকা প্রকাশ করে, উপসাগরীয় দেশগুলোতে সেটাই চলে। আধুনিক ব্রাউজার ও Node-এ এই ক্যালেন্ডার আগে থেকেই থাকে, আমরা সেটাকেই শুরুর ভিত্তি ধরি। কিন্তু বাংলাদেশে প্রতিটি মাস শুরু হয় নিজস্ব চাঁদ দেখার সিদ্ধান্তে, যা ইসলামিক ফাউন্ডেশনের জাতীয় চাঁদ দেখা কমিটি চলতি মাসের ২৯ তারিখ মাগরিবের পর জানায়। প্রায় প্রতি মাসেই সেই সিদ্ধান্ত উম্মুল কুরার চেয়ে এক দিন পরে পড়ে। তাই বাংলাদেশের পাতাগুলোতে প্রতিটি হিজরি তারিখ এক দিন পিছিয়ে দেখানো হয়।

এই এক দিনের হিসাব একটা অনুমান, নিশ্চয়তা নয়। কমিটি যখন কোনো মাসের শুরু ঘোষণা করে, আমরা ঘোষিত ইংরেজি তারিখটি লিখে রাখি আর সেই মাসের দিন গোনা হয় ওই তারিখ থেকে। ফলে ঘোষিত মাসগুলোর তারিখ নির্ভুল। সাম্প্রতিক রমজান, শাওয়াল, জিলহজ ও মহররমের শুরু এভাবেই বাঁধা আছে। চলতি মাসে ২৯ তারিখ পর্যন্ত যে তারিখ দেখানো হয় সেটা আমাদের সবচেয়ে কাছাকাছি অনুমান, এক দিন সরতে পারে। ছুটির তালিকায় এমন তারিখের পাশে তারকা চিহ্ন থাকে।

ভারতের পাতাগুলোতে উম্মুল কুরার তারিখ এক দিন না পিছিয়েই দেখানো হয়। ওই এক দিনের হিসাব বাংলাদেশের কমিটির ধরন থেকে নেওয়া, অন্য দেশে সেটা চাপিয়ে দিলে তা হতো নিছক আন্দাজ।

ভিত্তি ক্যালেন্ডার
উম্মুল কুরা (সৌদি আরব)
বাংলাদেশের সমন্বয়
১ দিন পিছিয়ে
অগ্রাধিকার
ইসলামিক ফাউন্ডেশনের ঘোষিত মাসের শুরু
তবু আলাদা হতে পারে
চলতি মাসের ২৯ ও ৩০ তারিখ

নামাজের সময়

নামাজের সময় কোনো শহরের ছাপা সময়সূচি থেকে নেওয়া নয়, প্রতিটি জায়গার নিজস্ব অক্ষাংশ-দ্রাঘিমাংশ থেকে adhan লাইব্রেরি দিয়ে হিসাব করা। বাংলাদেশ, ভারত ও পাকিস্তানের জন্য করাচির ইউনিভার্সিটি অব ইসলামিক সায়েন্সেসের পদ্ধতি ব্যবহার হয়, যেখানে ফজর ও এশা ধরা হয় সূর্য দিগন্তের ১৮ ডিগ্রি নিচে থাকলে, আর আসর হানাফি নিয়মে, অর্থাৎ কোনো বস্তুর ছায়া তার দ্বিগুণ হলে। সৌদি আরবের শহরগুলোতে উম্মুল কুরা পদ্ধতি ও শাফেয়ি আসর ব্যবহার হয়।

কাঁচা হিসাব ইসলামিক ফাউন্ডেশনের ঢাকার সময়সূচির সাথে হুবহু মেলে না। আমরা ১৪৪৭ হিজরির রমজানের ত্রিশ দিন ধরে দুটোকে পাশাপাশি মিলিয়ে দেখেছি: হিসাবে ফজর প্রায় চার মিনিট আর মাগরিব দুই মিনিট আগে আসছিল। তাই ওই দুই মিনিটের সমন্বয় যোগ করা আছে। সেহরি ও ইফতারের ব্যাপারে ফাউন্ডেশনের নিজস্ব সময়সূচিই চূড়ান্ত। আমাদেরটা কাছাকাছি একটা কাজের হিসাব হিসেবে দেখুন, দুটোতে ফারাক থাকলে ফাউন্ডেশনেরটা মানুন।

সময় দেখানো হয় প্রতিটি জায়গার নিজস্ব টাইম জোনে, মিনিটে গোল করে। ৪৮ ডিগ্রির বেশি অক্ষাংশে, যেখানে গ্রীষ্মে সূর্য দিগন্তের ১৮ ডিগ্রি নিচে না-ও নামতে পারে, adhan-এর সুপারিশ করা উচ্চ-অক্ষাংশ নিয়ম কাজে লাগে।

ইঞ্জিন
adhan
পদ্ধতি (বাংলাদেশ, ভারত, পাকিস্তান)
করাচি, ফজর ১৮° / এশা ১৮°
আসর
হানাফি
সমন্বয়
ফজর +৪ মিনিট, মাগরিব +২ মিনিট, ইসলামিক ফাউন্ডেশনের ঢাকার সূচির সাথে মিলিয়ে

সূর্যোদয়, সূর্যাস্ত, চাঁদ ও গ্রহণ

সূর্যোদয়-সূর্যাস্তে নামাজের সময়ের ইঞ্জিনের সেই একই সৌর জ্যামিতি ব্যবহার হয়, ৬৪টি জেলা সদরের প্রতিটির নিজস্ব স্থানাঙ্কে। চাঁদের কলা, আলোকিত অংশ আর চার পক্ষের হিসাব আসে astronomy-engine থেকে, যা প্রচলিত জ্যোতির্বিজ্ঞানের অ্যালগরিদমের একটি আধুনিক রূপায়ণ। গ্রহণের পাতায় প্রতিটি গ্রহণের বৈশ্বিক তথ্য ওই একই ইঞ্জিন থেকে নিয়ে ঢাকা থেকে দেখা যাবে কি না তা যাচাই করা হয়। কয়েক মিনিটের হেরফেরে ঢাকার হিসাবই সারা দেশের জন্য খাটে।

পূর্ণিমা, অমাবস্যা ও একাদশীর তারিখ প্রচলিত নিয়মে ঠিক হয়: ঢাকায় সূর্যোদয়ের সময় যে তিথি চলছে, সেটাই সেদিনের তিথি। এ কারণেই গভীর রাতে পূর্ণ হওয়া পূর্ণিমা পরের দিনের ঘরে লেখা থাকতে পারে।

পঞ্জিকা

দৈনিক পঞ্জিকা ঢাকার জন্য panchangam-js লাইব্রেরি দিয়ে হিসাব করা হয়, লাহিড়ী অয়নাংশ ধরে। এই অয়নাংশ ভারতের ক্যালেন্ডার সংস্কার কমিটি গ্রহণ করেছিল, বাংলাদেশের পঞ্জিকাগুলোও এটাই মানে। তিথি, নক্ষত্র, যোগ ও করণ তাদের শেষ হওয়ার ঠিক সময়সহ দেওয়া থাকে, আর পঞ্জিকার দিন চলে এক সূর্যোদয় থেকে পরের সূর্যোদয় পর্যন্ত। চান্দ্র মাস গোনা হয় অমান্ত রীতিতে, অর্থাৎ অমাবস্যায় মাস শেষ, উৎসবের তারিখের জন্য বাংলায় এটাই চল।

ছুটির দিন

চলতি ও আগের বছরের সরকারি ছুটি মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের গেজেট প্রজ্ঞাপন থেকে হাতে তোলা। যে বছরের গেজেট এখনো বের হয়নি, তার তালিকা একই স্থির তারিখের নিয়মে তৈরি হয়, ইসলামি তারিখ আসে ওপরের হিজরি পদ্ধতি থেকে আর হিন্দু ও বৌদ্ধ তারিখ পঞ্জিকা থেকে। সেই বছরের গেজেট প্রকাশ হলে তালিকা বদলে দেওয়া হয়। দুই ঈদ, শবে বরাত, ঈদে মিলাদুন্নবীর মতো চাঁদনির্ভর ছুটিতে গেজেটের তারিখই দেখানো হয়, চাঁদ দেখার পর আসল দিন এক দিন সরতে পারে।

সময় অঞ্চল ও দৈনিক হালনাগাদ

এই সাইটের প্রতিটি "আজ" মানে বাংলাদেশ সময়, UTC+6, বিদেশ থেকে খুললেও। লাইভ ঘড়িতে বাংলাদেশ ও ভারতের সময় পাশাপাশি দেখা যায়। ঢাকার মধ্যরাতে তারিখ বদলায়, আর দিনের নামাজের সময়, পঞ্জিকা ও চাঁদের তথ্য ক্যাশে থেকে না দিয়ে প্রতিবার নতুন করে হিসাব করা হয়।

কোনো তারিখ কোনো সূত্রের সাথে মিলছে না?

এখানকার কোনো তারিখ গেজেট, ইসলামিক ফাউন্ডেশনের ঘোষণা বা ছাপা পঞ্জিকার সাথে না মিললে কোন পাতা আর কোন সূত্র, জানান। এ ধরনের সংশোধনীই আমাদের কাছে আসা সবচেয়ে কাজের চিঠি, সাধারণত সেদিনই ঠিক করে দেওয়া হয়।

তারিখ নিয়ে জানান

s.anwar369@gmail.com