বাংলা ১২ মাসের নাম: অর্থ, দিনসংখ্যা ও ইংরেজি তারিখ
এক নজরে বারো মাস
দিনসংখ্যা আর তারিখ ২০১৯ সালের সংশোধনের পর বাংলাদেশে চালু বাংলা একাডেমির পঞ্জিকা অনুযায়ী। পশ্চিমবঙ্গের প্রচলিত পঞ্জিকায় এই সীমাগুলো বেশির ভাগ ক্ষেত্রে এক দিন সরে যায়।
| # | মাস | দিন | ইংরেজি তারিখ | ঋতু |
|---|---|---|---|---|
| ১ | বৈশাখ | ৩১ | ১৪ এপ্রিল থেকে ১৪ মে | গ্রীষ্ম |
| ২ | জ্যৈষ্ঠ | ৩১ | ১৫ মে থেকে ১৪ জুন | গ্রীষ্ম |
| ৩ | আষাঢ় | ৩১ | ১৫ জুন থেকে ১৫ জুলাই | বর্ষা |
| ৪ | শ্রাবণ | ৩১ | ১৬ জুলাই থেকে ১৫ আগস্ট | বর্ষা |
| ৫ | ভাদ্র | ৩১ | ১৬ আগস্ট থেকে ১৫ সেপ্টেম্বর | শরৎ |
| ৬ | আশ্বিন | ৩১ | ১৬ সেপ্টেম্বর থেকে ১৬ অক্টোবর | শরৎ |
| ৭ | কার্তিক | ৩০ | ১৭ অক্টোবর থেকে ১৫ নভেম্বর | হেমন্ত |
| ৮ | অগ্রহায়ণ | ৩০ | ১৬ নভেম্বর থেকে ১৫ ডিসেম্বর | হেমন্ত |
| ৯ | পৌষ | ৩০ | ১৬ ডিসেম্বর থেকে ১৪ জানুয়ারি | শীত |
| ১০ | মাঘ | ৩০ | ১৫ জানুয়ারি থেকে ১৩ ফেব্রুয়ারি | শীত |
| ১১ | ফাল্গুন | ২৯ বা ৩০ | ১৪ ফেব্রুয়ারি থেকে ১৪ মার্চ | বসন্ত |
| ১২ | চৈত্র | ৩০ | ১৫ মার্চ থেকে ১৩ এপ্রিল | বসন্ত |
ইংরেজি অধিবর্ষে ফাল্গুন ৩০ দিনের হয়, যাতে ১ বৈশাখ ১৪ এপ্রিলেই থাকে।
নামগুলোর মানে
বৈশাখ এসেছে বিশাখা নক্ষত্র থেকে, এই সময়ের পূর্ণিমা যার কাছে হয়। বছরের সবচেয়ে গরম মাস, আর হঠাৎ উত্তর-পশ্চিম থেকে আসা ঝড় কালবৈশাখীর জন্য পরিচিত।
জ্যৈষ্ঠ জ্যেষ্ঠা নক্ষত্র থেকে, যার অর্থ "সবচেয়ে বড়"; এই নক্ষত্রে আছে জ্যেষ্ঠা তারা। আম-কাঁঠালের মৌসুম, তাই এর আরেক নাম মধুমাস।
আষাঢ় পূর্বাষাঢ়া ও উত্তরাষাঢ়া নক্ষত্রের নামে। এই মাসে বর্ষা নামে, আর শুক্লপক্ষে রথযাত্রা।
শ্রাবণ শ্রবণা নক্ষত্র থেকে, যার অর্থ "শোনা"; তিন তারার এই নক্ষত্রে আছে শ্রবণা বা আলটেয়ার। বছরের সবচেয়ে বৃষ্টির মাস।
ভাদ্র পূর্বভাদ্রপদ ও উত্তরভাদ্রপদ নক্ষত্র থেকে, "শুভ পা" — পেগাসাসের বড় চতুষ্কোণের তারাগুলো। বৃষ্টি কমে, গরম ফেরে।
আশ্বিন অশ্বিনী নক্ষত্রের নামে, নক্ষত্রমালার প্রথমটি, আকাশের যমজ অশ্বারোহীর সঙ্গে যুক্ত। দুর্গাপূজা সাধারণত আশ্বিনেই, আর শরৎ মানে পরিষ্কার আকাশ আর কাশফুল।
কার্তিক কৃত্তিকা নক্ষত্র থেকে, যাকে ইংরেজিতে প্লিয়েডিস বলে। রাত ঠান্ডা হতে শুরু করে; কার্তিক পূজা আর ফসল কাটার শুরু এই মাসে।
অগ্রহায়ণ একমাত্র নাম যা কোনো নক্ষত্র থেকে আসেনি। অগ্র আর হায়ন, "বছরের সামনের দিক"। আকবরের আমলের আগে পর্যন্ত বাংলা বছর শুরু হতো এই মাসে, ধান কাটার সময়; নবান্ন উৎসব এখনো এই মাসেরই।
পৌষ পুষ্যা নক্ষত্র থেকে, কর্কট রাশির একটি নক্ষত্র। পৌষ সংক্রান্তি আর মাঝ-শীতের পিঠার মাস।
মাঘ মঘা নক্ষত্রের নামে, সিংহ রাশির নক্ষত্র, যাতে আছে মঘা বা রেগুলাস তারা। বছরের সবচেয়ে ঠান্ডা মাস; শুক্লপক্ষে বসন্ত পঞ্চমীতে সরস্বতী পূজা।
ফাল্গুন পূর্বফাল্গুনী ও উত্তরফাল্গুনী নক্ষত্র থেকে। বসন্ত আসে, একুশে ফেব্রুয়ারি পড়ে ৮ ফাল্গুনে, আর দোলপূর্ণিমায় মাস শেষ।
চৈত্র চিত্রা নক্ষত্র থেকে, উজ্জ্বল তারা চিত্রা বা স্পাইকা। চৈত্র সংক্রান্তি আর চড়ক দিয়ে বছর শেষ, পরদিন সকালে নতুন বছর।
মাসের দিনসংখ্যা নির্দিষ্ট হলো যেভাবে
প্রচলিত পঞ্জিকায় মাসের দৈর্ঘ্য নির্ভর করে সূর্য কোনো রাশিতে কত দিন থাকছে তার ওপর — ২৯ থেকে ৩২ দিন পর্যন্ত। বাংলাদেশ ১৯৮৭ সালে এর বদলে নির্দিষ্ট দিনসংখ্যা চালু করে, আর ২০১৯ সালে তা এমনভাবে সাজায় যাতে জাতীয় দিবসগুলো প্রতি বছর একই বাংলা তারিখে পড়ে। পহেলা বৈশাখ আর দুই পঞ্জিকার তফাত নিয়ে লেখায় বিস্তারিত আছে।
বাংলা মাস আর হিজরি মাস
বাংলা মাস সৌর, ঋতুর সঙ্গে তাল রেখে চলে। হিজরি মাস চান্দ্র, প্রতি বছর প্রায় এগারো দিন এগিয়ে আসে, তাই রমজান বা ঈদ মোটামুটি ৩৩ বছরের চক্রে পুরো বাংলা বছর ঘুরে আসে। ১৪৪৮ হিজরির রমজান পড়ছে মাঘ ও ফাল্গুন ১৪৩৩-এ; এক দশক আগে তা ছিল আষাঢ়ে।