পহেলা বৈশাখ ১৪৩৪ পড়ছে ১৪ এপ্রিল ২০২৭: বাংলাদেশ আর পশ্চিমবঙ্গের তারিখ আলাদা কেন
ক্যালেন্ডার

পহেলা বৈশাখ ১৪৩৪ পড়ছে ১৪ এপ্রিল ২০২৭: বাংলাদেশ আর পশ্চিমবঙ্গের তারিখ আলাদা কেন

BanglaDateToday
বাংলাদেশে ১৪৩৪ বঙ্গাব্দ শুরু হচ্ছে বুধবার ১৪ এপ্রিল ২০২৭। ১৪৩৩ সনের শেষ দিন, চৈত্র সংক্রান্তি, মঙ্গলবার ১৩ এপ্রিল। সীমান্তের ওপারে পশ্চিমবঙ্গে পয়লা বৈশাখ বৃহস্পতিবার ১৫ এপ্রিল। একই মাসের নাম, কিন্তু দুই আলাদা পঞ্জিকা থেকে দুই তারিখ। দুই বাংলায় আত্মীয়, ব্যবসা বা পার্বণের যোগ থাকলে এই পার্থক্যটা জেনে রাখা কাজের।

এক নজরে পহেলা বৈশাখ ১৪৩৪

বাংলাদেশপশ্চিমবঙ্গ ও ত্রিপুরা
বাংলা নববর্ষ ১৪৩৪বুধবার ১৪ এপ্রিল ২০২৭বৃহস্পতিবার ১৫ এপ্রিল ২০২৭
চৈত্র সংক্রান্তিমঙ্গলবার ১৩ এপ্রিলবুধবার ১৪ এপ্রিল
পঞ্জিকাবাংলা একাডেমি, নির্দিষ্টসূর্যসিদ্ধান্ত, জ্যোতির্গণনা
সরকারি ছুটিহ্যাঁ, ১৪ এপ্রিলহ্যাঁ, ১৫ এপ্রিল (রাজ্য ছুটি)

১৪ এপ্রিল ২০২৭ হিজরি তারিখে ৭ জিলকদ ১৪৪৮ — ঈদুল ফিতরের এক মাস পর, ঈদুল আযহার এক মাস আগে। তাই আগামী বছর নববর্ষ কোনো ঈদের সঙ্গে মিলছে না।

বাংলাদেশ ১৪ এপ্রিল নির্দিষ্ট করল কেন

ষাটের দশক পর্যন্ত সব জায়গায় বাংলা পঞ্জিকা হিসাব হতো পুরোনো সূর্যসিদ্ধান্তের সারণি ধরে, সূর্য কোন রাশিতে ঢুকছে তা দেখে। মাসের দৈর্ঘ্য বছর বছর বদলাত, নববর্ষ ১৩, ১৪ আর ১৫ এপ্রিলের মধ্যে ঘুরত। একুশে ফেব্রুয়ারির মতো জাতীয় দিবস প্রতি বছর আলাদা বাংলা তারিখে পড়ত।

১৯৬৬ সালে মুহম্মদ শহীদুল্লাহর নেতৃত্বে একটি কমিটি নির্দিষ্ট গাণিতিক পঞ্জিকার প্রস্তাব দেয়। বাংলাদেশ তা গ্রহণ করে ১৯৮৭ সালে: প্রথম পাঁচ মাস ৩১ দিন, বাকিগুলো ৩০, অধিবর্ষে ফাল্গুনে একটি বাড়তি দিন। পহেলা বৈশাখ পাকাপাকিভাবে ১৪ এপ্রিল হয়ে যায়।

২০১৯ সালে বাংলা একাডেমি আরেকবার সংশোধন করে। এখন বৈশাখ থেকে আশ্বিন, প্রথম ছয় মাস ৩১ দিন; কার্তিক, অগ্রহায়ণ, পৌষ ও মাঘ ৩০ দিন; ফাল্গুন ২৯ দিন, ইংরেজি অধিবর্ষে ৩০; আর চৈত্র ৩০ দিন। এই বিন্যাসে প্রতিটি ইংরেজি তারিখ প্রতি বছর একই বাংলা তারিখে পড়ে: ২১ ফেব্রুয়ারি সব সময় ৮ ফাল্গুন, ২৬ মার্চ সব সময় ১২ চৈত্র, ১৬ ডিসেম্বর সব সময় ১ পৌষ।

পশ্চিমবঙ্গে ১৫ এপ্রিল কেন

পশ্চিমবঙ্গ এই সংস্কার নেয়নি। সেখানকার পঞ্জিকা এখনো মেষ সংক্রান্তির ক্ষণ হিসাব করে — নিরয়ণ গণনায় সূর্যের মেষ রাশিতে প্রবেশ — আর তার পরের দিন থেকে বৈশাখ ধরে। এই ক্ষণ এখন বেশির ভাগ বছর ১৪ এপ্রিলে পড়ে বলে পয়লা বৈশাখ প্রায় প্রতি বছরই ১৫ এপ্রিল, কালেভদ্রে ১৪ এপ্রিল। একই নিয়মে প্রতিটি মাস ২৯ থেকে ৩২ দিনের হয়, আর সে কারণেই ছাপা লোকনাথ বা গুপ্তপ্রেস পঞ্জিকার সঙ্গে বাংলাদেশের ক্যালেন্ডার অনেক মাসে এক দিন করে মেলে না।

সনের সংখ্যা অবশ্য দুই দিকেই এক: ২০২৭ সালের এপ্রিলে সব জায়গায় ১৪৩৪ শুরু।

দিনটা যেভাবে কাটে

ঢাকায় দিনের শুরু রমনার বটমূলে ছায়ানটের ভোরের গান দিয়ে, তারপর চারুকলা থেকে মঙ্গল শোভাযাত্রা। দোকানিরা পুরোনো হিসাব বন্ধ করে নতুন খাতা খোলেন — হালখাতা — আর খদ্দেরকে মিষ্টি খাওয়ান। সকালের খাবার বলতে বেশির ভাগ মানুষ পান্তা-ইলিশ বোঝেন, যদিও সেটা গ্রামের পুরোনো রীতি নয়, শহরের হালের চল। জেলা শহরগুলোতে বৈশাখী মেলা চলে কয়েক দিন ধরে।

আগামী কয়েক বছরের তারিখ

বাংলাদেশে ১৪ এপ্রিলই থাকছে; পশ্চিমবঙ্গের তারিখ প্রচলিত নিয়মে সম্ভাব্য।

বঙ্গাব্দবাংলাদেশপশ্চিমবঙ্গ
১৪৩৪১৪ এপ্রিল ২০২৭১৫ এপ্রিল ২০২৭
১৪৩৫১৪ এপ্রিল ২০২৮১৪ এপ্রিল ২০২৮
১৪৩৬১৪ এপ্রিল ২০২৯১৫ এপ্রিল ২০২৯
১৪৩৭১৪ এপ্রিল ২০৩০১৫ এপ্রিল ২০৩০

১৪৩৪ সনের প্রতিটি মাস, তার ইংরেজি তারিখের সীমা আর ছুটি সহ, ক্যালেন্ডারের পাতায় আছে। আর দলিল-দস্তাবেজের পুরোনো বাংলা সন ইংরেজি সালে বদলাতে সন রূপান্তর টুল ব্যবহার করুন।