২০২৭ সালের সরকারি ছুটির তালিকা: সম্ভাব্য তারিখ ও লম্বা ছুটি
ছুটির দিন

২০২৭ সালের সরকারি ছুটির তালিকা: সম্ভাব্য তারিখ ও লম্বা ছুটি

BanglaDateToday
মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ সাধারণত অক্টোবর থেকে নভেম্বরের মধ্যে পরের বছরের ছুটির তালিকা প্রকাশ করে। ২০২৭ সালের গেজেট বের হওয়ার আগে পর্যন্ত নিচের তারিখগুলো আমাদের ক্যালেন্ডারের নিয়মে হিসাব করা: জাতীয় দিবসগুলো বরাবরের তারিখে, ইসলামি ছুটি সম্ভাব্য চাঁদ দেখা ধরে, আর হিন্দু ও বৌদ্ধ ছুটি তিথি অনুযায়ী। সরকারি তালিকা প্রকাশের দিনই এই পাতা হালনাগাদ করা হবে।

২০২৭ সালের সম্ভাব্য সরকারি ছুটি

তারিখবারছুটিধরন
২৪ জানুয়ারিরবিবারশবে বরাতধর্মীয় (চাঁদ)
২১ ফেব্রুয়ারিরবিবারশহীদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসজাতীয়
৫ মার্চশুক্রবারজুমাতুল বিদাধর্মীয় (চাঁদ)
৭ মার্চরবিবারশবে কদরধর্মীয় (চাঁদ)
১০ থেকে ১২ মার্চবুধ থেকে শুক্রবারঈদুল ফিতরধর্মীয় (চাঁদ)
২৬ মার্চশুক্রবারস্বাধীনতা দিবসজাতীয়
১৪ এপ্রিলবুধবারপহেলা বৈশাখ, বাংলা নববর্ষ ১৪৩৪সাংস্কৃতিক
১ মেশনিবারমে দিবসজাতীয়
১৭ থেকে ১৯ মেসোম থেকে বুধবারঈদুল আযহাধর্মীয় (চাঁদ)
২১ মেশুক্রবারবুদ্ধ পূর্ণিমাধর্মীয়
১৬ জুনবুধবারআশুরাধর্মীয় (চাঁদ)
৫ আগস্টবৃহস্পতিবারজুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবসজাতীয়
১৫ আগস্টরবিবারঈদে মিলাদুন্নবীধর্মীয় (চাঁদ)
২৬ আগস্টবৃহস্পতিবারজন্মাষ্টমীধর্মীয়
৮ থেকে ৯ অক্টোবরশুক্র থেকে শনিবারদুর্গাপূজা (নবমী ও বিজয়া দশমী)ধর্মীয়
১৬ ডিসেম্বরবৃহস্পতিবারবিজয় দিবসজাতীয়
২৫ ডিসেম্বরশনিবারবড়দিনধর্মীয়

সব মিলিয়ে ২২ দিন। ২০২৬ সালের গেজেটে দুই ঈদের সঙ্গে নির্বাহী আদেশের ছুটি যোগ হয়ে মোট ২৬ দিন হয়েছিল। ঈদের যাতায়াতের জন্য সরকার বাড়তি দিন দিলে ২০২৭ সালের চূড়ান্ত সংখ্যাও ওই কাছাকাছি হবে বলে ধরে নেওয়া যায়।

কোন তারিখগুলো এখনো বদলাতে পারে

তালিকায় যেখানে "চাঁদ" লেখা, সেগুলো হিজরি চান্দ্র বর্ষপঞ্জি অনুযায়ী। জাতীয় চাঁদ দেখা কমিটির বৈঠকের পর বাংলাদেশে এই তারিখ চূড়ান্ত হয়, তাই এক দিন আগে-পরে হতে পারে। উপরের তারিখগুলোতে বরাবরের নিয়ম ধরা হয়েছে: সৌদি আরবের এক দিন পর।

দুর্গাপূজার দুই দিনের ছুটি নির্ভর করে ঢাকায় সূর্যোদয়ের সময় নবমী ও দশমী তিথি কোন দিনে পড়ছে তার ওপর। বুদ্ধ পূর্ণিমা আর জন্মাষ্টমীও একই নিয়মে ঠিক হয়। বছর শুরুর পর এগুলো সাধারণত নড়ে না, তবে গেজেটে মাঝে মাঝে পাশের দিনটি নেওয়া হয়।

২০২৭ সালের লম্বা ছুটি

বাংলাদেশে সাপ্তাহিক ছুটি শুক্র ও শনিবার। তাই বৃহস্পতিবার বা রবিবারে ছুটি পড়লে টানা তিন দিন পাওয়া যায়, আর ঈদে সাধারণত আরও বেশি।

  • শবে বরাত, ২৪ জানুয়ারি (রবিবার): শুক্র থেকে রবি, তিন দিন।
  • একুশে ফেব্রুয়ারি (রবিবার): শুক্র থেকে রবি, তিন দিন।
  • ঈদুল ফিতর, ১০ থেকে ১২ মার্চ: বুধ থেকে শনিবার, চার দিন। মঙ্গলবার নির্বাহী আদেশের ছুটি যোগ হলে পাঁচ দিন।
  • স্বাধীনতা দিবস, ২৬ মার্চ (শুক্রবার): সাপ্তাহিক ছুটির দিনে পড়ায় বাড়তি দিন নেই।
  • ঈদুল আযহা, ১৭ থেকে ১৯ মে: সোম থেকে বুধবার। মাঝের রবিবার ১৬ মে কর্মদিবস, তবে সরকার সেদিন নির্বাহী আদেশে ছুটি দিলে শুক্রবার ১৪ মে থেকে টানা ছয় দিন।
  • জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস, ৫ আগস্ট (বৃহস্পতিবার): বৃহস্পতি থেকে শনি, তিন দিন।
  • দুর্গাপূজা, ৮ ও ৯ অক্টোবর: শুক্র ও শনিবারে পড়ায় কোনো কর্মদিবস যাচ্ছে না।
  • বিজয় দিবস, ১৬ ডিসেম্বর (বৃহস্পতিবার): বৃহস্পতি থেকে শনি, তিন দিন।

পহেলা বৈশাখ বুধবার ১৪ এপ্রিল আর আশুরা বুধবার ১৬ জুন — দুটোই সপ্তাহের মাঝখানে একদিনের ছুটি।

২০২৬ সালের সঙ্গে পার্থক্য কোথায়

২০২৬ সালের গেজেটে ঠিক করা দুটি জাতীয় দিবস একই তারিখে থাকছে: ৫ আগস্ট জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস আর ১৬ ডিসেম্বর বিজয় দিবস। হিজরি বছর সৌর বছরের চেয়ে প্রায় এগারো দিন ছোট বলে ঈদুল ফিতর ২০২৬ সালের ২১ মার্চ থেকে সরে ২০২৭ সালে ১০ মার্চে আসছে, আর ঈদুল আযহা ২৮ মে থেকে ১৭ মে-তে। দুর্গাপূজাও এগিয়ে আসছে — ২০ ও ২১ অক্টোবরের বদলে ৮ ও ৯ অক্টোবর।

স্কুল ও ব্যাংকের ছুটি

স্কুল-কলেজের ছুটি শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের আলাদা তালিকায় চলে, আর ব্যাংকের ছুটি বাংলাদেশ ব্যাংকের সার্কুলারে। দুটোতেই সরকারি তালিকার সঙ্গে কয়েকটি দিন বাড়তি থাকে। এই তালিকাগুলোও বছরের শেষ দিকে প্রকাশ হয়; বের হলে ছুটির পাতায় লিংক দেওয়া হবে।

২০২৭ সালে বাংলা সন

বাংলা তারিখ ধরে পরিকল্পনা করলে মনে রাখুন, ২০২৭ সাল দুটি বাংলা বছরে ভাগ হয়ে আছে। বছরের প্রথম কয়েক মাস ১৪৩৩ সনের, আর ১৪ এপ্রিল থেকে ১৪৩৪। বাংলা সন অনুযায়ী একই ছুটির তালিকা আলাদা পাতায় আছে, আর প্রতিটি ছুটির নিজস্ব পাতায় তার ইতিহাস ও আগামী বছরগুলোর তারিখ পাবেন।